এর পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শক্তিশালী চাহিদা, মার্কিন ডলারের দরপতন ও সরবরাহ নিয়ে ধারাবাহিক অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার না বাড়ানোর আভাস পাওয়ায় পণ্যবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো জোরদার হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
শিল্প ধাতুগুলোর মধ্যে গত মাসে তামার দাম বেড়েছে পাউন্ডপ্রতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে খনি থেকে তামা উত্তোলনের বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো নতুন চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে কিনা, তা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও চিলির যৌথ উদ্যোগ ধাতুটি ব্যবহারের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। লিথিয়াম ও তামা সরবরাহ জোরদার করতে দেশ দুটি সম্প্রতি পাঁচটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যা উভয় দেশের প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকায় বৈরী আবহাওয়া ও পরিচালনগত সমস্যায় তামা উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খনি থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বিশ্বব্যাপী তামার মজুদ কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চীনের শক্তিশালী চাহিদা এবং তামা আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের খবর মেটালের দামে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
জুলাইয়ে অ্যালুমিনিয়ামের দামও পাউন্ডপ্রতি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা একদিকে যেমন প্রভাব ফেলেছে, অন্যদিকে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ (এলএমই) ও সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে (এসএইচএফই) ধাতুটির মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া সরবরাহ সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে অ্যালুমিনিয়াম ক্যান সংগ্রহের জটিলতা কোকা-কোলার মতো আন্তর্জাতিক কোমলপানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার নতুন রফতানি নিয়ন্ত্রণ নীতি বৈশ্বিক চালানে বাধা সৃষ্টি করলেও চীন থেকে অ্যালুমিনিয়ামের ধারাবাহিক রফতানি আন্তর্জাতিক চাহিদার ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে।
শিল্প ধাতুর বাজারে গত জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি লাভজনক অবস্থায় ছিল নিকেল, যার দাম প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ে। ওয়াশিংটন ৬০টি দেশ থেকে ধাতু আমদানির ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক বসানোর গুঞ্জনে বাজারে লেনদেনের খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পাশাপাশি দস্তারও মজুদ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ।